Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

পঞ্চাশ বছর ধরে ট্যাক্স অব্যাহতি এবং প্রণোদনা দিয়ে অনেক ‘শিশুকে’ লালন-পালন করেছি।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে  বলেছেন, কর আহরণ বৃদ্ধি না করলে দেশ বিপদে পড়তে পারে, কারণ প্রোটেকশনের দিন শেষ হয়ে গেছে। তিনি মঙ্গলবার ভ্যাট দিবস উপলক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত একটি সেমিনারে এই বিষয়টি উল্লেখ করেন।



তিনি বলেন, "যদি ট্যাক্স রেভিনিউ না বাড়ায়, তাহলে আমরা নিজেরাই সমস্যায় পড়ব। উপদেষ্টা আরও জানান, বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনার পর তারা অবহিত করেছেন যে, দেশে খুব কম লোক ভ্যাট দেয়, অথচ জমা দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীরা প্রাতিষ্ঠানিক অব্যাহতি চাচ্ছেন।

সালেহউদ্দিন বলেন, আমরা গত পঞ্চাশ বছর ধরে ট্যাক্স অব্যাহতি এবং প্রণোদনা দিয়ে অনেক ‘শিশুকে’ লালন-পালন করেছি। কিন্তু কতদিন আমরা এই সংস্কৃতি চালিয়ে যেতে পারি? তিনি আলোচনা করেন যে, কিছু ব্যবসায়ীরা শারীরিকভাবে বড় হলেও এখনও নিজেদেরকে রক্ষিত মনে করছেন, কিন্তু এই প্রোটেকশনের যুগ শেষ হয়ে গেছে।

২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের লক্ষ্যে কর আহরণ বাড়ানোর এবং এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ।

সব কিছু মাথায় রেখেই অনুরোধ করব, আপনারা ট্যাক্স দিবেন, বলেছেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি করদাতাদের প্রতি সদয় হওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, আমাদের কর্মকর্তারা, ফ্রেন্ডলি হয়ে কাজ করুন। জোর করে টাকা আদায় করার প্রয়োজনে নেই, বরং যদি করদাতাদের কোনও অসুবিধা হয়, তাদের কথা শুনুন এবং যথাসম্ভব সহায়তা করুন।

সেমিনারের আলোচনায় অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের কর জিডিপি অনেক কম, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় যথেষ্ট নিচে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছে সমালোচনা শুনতে হয় তিনি আশা করেন, এনবিআর এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট ডেফিসিট পূরণের জন্য আমরা ঋণ নিই। যদি রেভিনিউ কমে, তাহলে ঋণের পরিমাণ বাড়বে, যা আমাদেরকে ঋণে জর্জরিত করবে। তিনি সতর্ক করেন যে, ব্যয় কমাতে গেলে উন্নয়ন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাই দেশের গ্রোথ নিশ্চিত করার জন্য রেভিনিউ বৃদ্ধি অপরিহার্য।

এফবিসিসিআইর প্রশাসক হাফিজুর রহমান বলেন,যত ভালোভাবে ব্যবসায়ীরা ভ্যাট সংগ্রহের কাজটি করবেন, রাজস্ব আদায় ততই গতিশীল হবে। আমাদের কেনাকাটা করা মানুষের মধ্যে ভ্যাট প্রদানের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তিনি ভ্যাটের পরিমাণ না বাড়িয়ে এর বিষয়বস্তু সম্প্রসারণের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করার জন্যও অনুরোধ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, এই রেট বৃদ্ধির কারণে ভ্যাট ফাঁকির প্রবণতা বেড়ে চলছে। তাই যদি আমরা এটি কমাতে পারি, তবে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করবে।

এনবিআরের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, বর্তমানে আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কিভাবে ট্যাক্স রেভিনিউ বাড়ানো যায়। বিভিন্ন কারণে শুল্কগুলো বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। আমাদের মূল আয়ের উৎস হচ্ছে ভ্যাট এবং আয়কর।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ব্যবসায়ী ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে কালেক্টিং এজেন্টের ভূমিকা পালন করে। তবে আমরা এখানে বড় ধরনের ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ব্যবসায়ীরা ভ্যাট প্রদান করবেন না, ক্রেতারা ভ্যাট দেবেন। ব্যবসায়ীরা কেবল সরকারের পক্ষে ভ্যাট কালেক্টিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করবেন। এ ক্ষেত্রে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে। আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরা একই কথা বলছেন যে, ভ্যাট আদায় বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রচুর সুযোগ রয়েছে।

চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে রেজিস্টার্ড ভ্যাট প্লেয়ার সংখ্যা ৫ লাখের বেশি, কিন্তু আমি মনে করি, এটি ২০-২৫ লাখে উন্নীত করা সম্ভব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ